বাংলাদেশ রাজনীতিতে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ
বাংলাদেশে একসময় নিষিদ্ধ থাকা একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি এখন আর গোপন নয়—দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির মধ্যেই নিজেদের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং রাজনৈতিক পরিসরে প্রভাবশালী—এমন সব গোষ্ঠীর সঙ্গেও তারা যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী, যাদের অতীতে বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ হিসেবে দেখা হতো।
কেন এই ইসলামপন্থী দল?
একসময় সহিংস কর্মকাণ্ড ও চরমপন্থার অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়া দলটি সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের অবস্থান বদলেছে বলে দাবি করছে। দলটির নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন, তারা এখন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই রাজনীতি করতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, এই পরিবর্তন—বাস্তব হোক বা কৌশলগত—উপেক্ষা করার মতো নয়। ওয়াশিংটন মনে করছে, দলটিকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে ঠেলে রাখলে উগ্রপন্থা আরও বাড়তে পারে। বরং নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তাদের সহিংস পথ থেকে দূরে রাখতে পারে—এমন ধারণাও কাজ করছে।
মানবাধিকার বনাম ভূরাজনীতি
সমালোচকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে একদিকে মানবাধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, সেখানে অন্যদিকে ইসলামপন্থী ও অতীতে নিষিদ্ধ দলগুলোর সঙ্গে সখ্যতা সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান বরাবরের মতোই বাস্তববাদী—ভূরাজনৈতিক স্বার্থই এখানে প্রধান চালিকাশক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে আদর্শগত প্রশ্নের চেয়ে কৌশলগত স্থিতিশীলতাই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই যোগাযোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে কোনো বিতর্কিত দলের ঘনিষ্ঠতা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে এটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
উপসংহার
একসময় নিষিদ্ধ থাকা ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বন্ধুত্বের’ ইঙ্গিত শুধু একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। আদর্শ, ইতিহাস ও ভূরাজনীতির এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত কোন দিকটি প্রাধান্য পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্রঃ ওয়াশিংটন পোষ্ট








Leave a Reply