বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, ‘অপমানিত’ বোধ করছেন, মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগ করতে চান – Reuters
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেছে্ন, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর তার মেয়াদকালের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছেন। রয়টার্সের সাথে হোয়াটস আপের মাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক অপমানিত বোধ করেছেন। হোয়াটস আপে রয়টার্সের সাথে কি ভয়েস কলে কথা বলেন নাকি বার্তার মাধ্যমে তা জানা যায়নি।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, তবে ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক। ১৭৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটির নির্বাহী ক্ষমতা মূলতঃ প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক বিদ্রোহের ফলে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা্ সরকারের পতন হয়। ফলে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনিই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে অবশিষ্ট থাকেন।
৭৫ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে হাসিনার আওয়ামী লীগ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামীলীগকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষিদ্ধ করে রেখেছে।
রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলেছেন ইউনূস তাকে একপাশে সরিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন,
“আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি বাইরে যেতে আগ্রহী,” তিনি ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম মিডিয়া সাক্ষাৎকার।
“নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করা উচিত,” শাহাবুদ্দিন বলেন। “সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদের কারণে আমি আমার অবস্থান ধরে রাখছি।”
রাষ্ট্রপতি বলেন যে ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তার সাথে দেখা করেননি। তার প্রেস বিভাগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলি থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
“রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি ছিল, সমস্ত কনস্যুলেট, দূতাবাস এবং হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল এবং এটি হঠাৎ এক রাতেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে,” তিনি বলেন। “মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা যায় যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি।”
শাহাবুদ্দিন বলেন যে তিনি প্রতিকৃতি সম্পর্কে ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমার কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখা হয়েছে।”
ইউনূসের প্রেস উপদেষ্টারা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি।
রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। সেনাবাহিনী ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বিক্ষোভের মধ্যেও তার পাশে ছিল, যা প্রবীণ রাজনীতিকের ভাগ্য নির্ধারণ করে। শাহাবুদ্দিন বলেন, জামান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে ক্ষমতা দখলের তার কোনও ইচ্ছা নেই।
বাংলাদেশের সামরিক শাসনের ইতিহাস রয়েছে, তবে জামান বলেছেন যে তিনি গণতন্ত্র ফিরে পেতে চান।
শাহাবুদ্দিন বলেছেন, “যদিও কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী প্রাথমিকভাবে তাকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে কোনও রাজনৈতিক দল তাকে তা করতে বলেনি।”
‘শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কিনা’ রয়টার্সের প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান শাহাবুদ্দিন। তিনি শুধু বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীন ছিলেন, কোনও দলের সাথে যুক্ত নন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে ০৫ আগস্টের পর থেকেই। শপথ গ্রহনের পর প্রধান উপদেষ্টা একবার তার সাথে সাক্ষাৎ করেননি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনই হঠাৎ করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘোষণা কি তাৎপর্য বহন করছে তা বিশ্লেষকরা বলতে পারবেন। তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে, তিনি জানেন যে, নির্বাচন যদি হয়েই যায়, তাকে এমনিতেই সরিয়ে দেয়া হবে – তাই আগেভাবে বলে রাখলেন।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এতো অপমান সহ্য করেও তিনি কেনো পদে আছেন – তাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সংবিধানে যে নিয়ম আছে তার কোনোটাই বিদ্যমান ছিলো না, ফলে তাঁর পদত্যাগের সুযোগ ছিলো না, এমনকি ছুটিতে যাওয়ারও সুযোগ ছিলো না। দেশে যাতে সংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয় সেজন্যেই তিনি পদত্যাগ করেননি, যা রাষ্ট্রপতি নিজেও রটার্সের সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন।








Leave a Reply