বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী সম্প্রতি রাশিয়ান টেলিভিশন (RT)-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং “Gen-Z আন্দোলন” কেবল অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয় — এর পেছনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন জর্জ সোরোস, বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস এবং মার্কিন সংস্থা USAID-কে।
বিদেশি তহবিল ও পরিকল্পিত আন্দোলনের অভিযোগ
মহিবুল চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করে একটি “রঙিন বিপ্লবধর্মী আন্দোলন” তৈরি করা হয়েছিল — যার লক্ষ্য ছিল সরকার পরিবর্তন বা “রেজিম চেঞ্জ”। তিনি দাবি করেন, বিদেশি এনজিও, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মিডিয়ার কিছু অংশ এই কৌশলের অংশ ছিল।
তার ভাষায়, এই আন্দোলন ছিল “Highly Organized and Externally Assisted,” যা কেবল চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
ক্লিনটন পরিবার ও ইউনূস সংযোগের ইঙ্গিত
RT-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত করেন, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন ও গ্রামীণ নেটওয়ার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশে একটি বিশেষ লবি তৈরি করেছে।
তার মতে, এই লবির লক্ষ্য ছিল এমন এক প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
USAID-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মহিবুল হাসান নওফেল আরও দাবি করেন, USAID শুধু উন্নয়ন তহবিল নয়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোতে প্রভাব বিস্তার করছে — যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপের সমান।
সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্ন
মহিবুল চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম। কিন্তু এখন যে বিদেশি প্রভাব ও অর্থায়নের ছায়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে, তা সেই চেতনার পরিপন্থী।
তিনি সতর্ক করেন — “যদি একটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিদেশি কৌশলের পরীক্ষাগারে পরিণত করা হয়, তবে ভবিষ্যতে জাতীয় নীতি ও স্বাধীনতা দুটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
বিশ্লেষণ
এই সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো এই মন্তব্যকে “Political Allegation” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তবে এটি স্পষ্ট, বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক বহুমাত্রিক প্রভাবের সংঘাতে রয়েছে —অভ্যন্তরীণ সংস্কার আন্দোলনের অন্তড়ালে ভূরাজনৈতিক স্বার্থের খেলাঘর।
উপসংহার
মহিবুল হাসান চৌধুরীর বক্তব্য শুধু কোনো দলের রাজনৈতিক অবস্থান নয়; এটি একটি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করে —
“বাংলাদেশ কি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেই নির্ধারণ করতে পারছে, নাকি বিশ্ব রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে তা প্রভাবিত হচ্ছে?”
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম কীভাবে স্বাধীনতা ও দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করে তার ওপর।
সাক্ষাৎকারের পূর্ণ ভিডিওঃ সৌজন্যে রাশিয়ান টলিভিশন (RT)








Leave a Reply