ইতিহাসে এমন বহু শাসকের নাম পাওয়া যায়- যাঁরা জ্ঞান, কৌশল ও প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। কিন্তু অবাক করার মতো সত্য হলো—তাঁদের কেউ কেউ নিজের নাম পর্যন্ত লিখতে পারতেন না। তেমনই এক বিস্ময়কর চরিত্র ছিলেন চেঙ্গিস খান।
চেঙ্গিস খান (খ্রিস্টীয় ১১৬২–১২২৭) ছিলেন মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শাসনামলে এই সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়েছিল পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপের দ্বারপ্রান্ত পর্যন্ত। আজকের মানচিত্রে অন্তত ২০টির বেশি আধুনিক রাষ্ট্রের অংশ একসময় তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এটি ছিল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাম্রাজ্য । অথচ ইতিহাসবিদদের মতে, চেঙ্গিস খান নিজে পড়তে বা লিখতে জানতেন না; এমনকি কাগজে সই করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না।
তবে এই অশিক্ষা তাঁর নেতৃত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং তিনি বুঝেছিলেন—ক্ষমতা মানে শুধু লেখাপড়া নয়, ক্ষমতা মানে সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় বসানো। তিনি দক্ষ সেনাপতি, বুদ্ধিমান পরামর্শক ও অভিজ্ঞ প্রশাসকদের ওপর নির্ভর করতেন। রাষ্ট্রীয় নথি, চুক্তি বা ফরমান লিখে রাখার দায়িত্ব দিতেন শিক্ষিত আমলাদের হাতে, আর নিজে মন দিতেন সিদ্ধান্ত গ্রহণে।
চেঙ্গিস খানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ও বাস্তববুদ্ধি। তিনি সেনাবাহিনীতে কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন, ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মানুষকে পদ দেন—জাতি বা গোত্র নয়। এমনকি তিনি আইনসংহিতা ‘ইয়াসা’ প্রণয়ন করেছিলেন, যা মুখে মুখে প্রচলিত হলেও কার্যকর ছিল সমগ্র সাম্রাজ্যে।
এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নেতৃত্বের মানে কেবল ডিগ্রি বা স্বাক্ষর নয়। দূরদৃষ্টি, সাহস, মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই একজন শাসককে মহান করে তোলে। কাগজে সই করতে না জানলেও, চেঙ্গিস খান ইতিহাসে নিজের নাম লিখে গেছেন রক্ত, ঘাম আর অপ্রতিরোধ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে।
আরও পড়ুনঃ








Leave a Reply