বেলজ (Belz) – পূর্ব ইউরোপের প্রভাবশালী একটি হাসিদিক ধারার পরিচয়
বেলজ (Belz) ইহুদি ধর্মের হাসিদিক ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক শাখা। নামটি এসেছে বর্তমান ইউক্রেনে অবস্থিত ছোট শহর Belz থেকে, যেখানে এই আন্দোলনের সূচনা ও কেন্দ্রীয় বেড়ে ওঠা ঘটে ১৯শ শতাব্দীর শুরুর দিকে। সমসাময়িক সময়ে বেলজ ধারার অনুসারী বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে। তাদের ধর্মচর্চা, পোশাক, নেতৃত্ব ব্যবস্থা ও সম্প্রদায়ের শক্ত সংগঠন—সবকিছু মিলিয়ে বেলজ হাসিদিজম আজও হাসিদিক ইহুদিবাদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
বেলজ হাসিদিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন—রব্বি শোলোম রোকেয়াচ (Rabbi Sholom Rokeach)
সময়কাল: ১৭৭৯–১৮৫৫
তিনি বেলজ শহরকে একটি ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে হাজারো অনুসারী তার কাছ থেকে তোরাহ শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দিশা নিতে আসতেন। রোকেয়াচ পরিবার পরবর্তী প্রজন্মেও ধারাবাহিকভাবে বেলজ নেতৃত্বর অধিকার ধরে রাখে। এদের নেতৃত্ব সাধারণত রেব্বে (Rebbe) উপাধিতে পরিচিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি নির্যাতনে বেলজ সম্প্রদায় ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পূর্ব ইউরোপে তাদের বহু কেন্দ্র, উপাসনালয় ও পরিবার নিধন হয়। কিন্তু চরম বিপর্যয়ের পরে বেঁচে যাওয়া বেলজ রেব্বে ও অনুসারীরা ইসরায়েলে নতুন করে সম্প্রদায় পুনর্গঠন করে।
বর্তমানে বেলজ-এর বৃহত্তম কেন্দ্র—
- জেরুজালেম (Jerusalem), ইসরায়েল
- নিউ ইয়র্ক (Brooklyn) সহ বিভিন্ন মার্কিন শহর
- যুক্তরাজ্য, কানাডা ও বেলজিয়ামেও উল্লেখযোগ্য অনুসারী রয়েছে
বেলজ অনুসারীরা আচার–অনুষ্ঠান, শআব্বাত পালনের রীতি, পোশাক, সংগঠিত ধর্মীয় শিক্ষা এবং রেব্বে কেন্দ্রিক নেতৃত্ব—এসব বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ় ও রক্ষণশীল। তাদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে—
- প্রচলিত হাসিদিক কালো ঐতিহ্যবাহী পোশাক
- স্ত্রিমেল (Shtreimel) নামে পশমের হ্যাট (শাব্বাত ও উৎসবে)
- কান্নাপেইস (পায়োস/সাইডকার্ল) রাখা
- সমষ্টিগত উপাসনা ও প্রার্থনার বড় আয়োজন
- রেব্বের নির্দেশ ও ব্যাখ্যাকে অত্যন্ত মর্যাদা দেওয়া
বেলজ সম্প্রদায় কঠোর তোরাহ অধ্যয়ন, পরিবারকেন্দ্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শৃঙ্খলাকে জীবনের কেন্দ্র হিসেবে ধরে।
বেলজ কিছু ক্ষেত্রে গের (Ger), সাতমার (Satmar), ছাবাদ (Chabad-Lubavitch) ও ব্রেসলভ (Breslov) ধারার সঙ্গে ধর্মীয় নীতিতে মিল রাখে, তবে তাদের—নেতৃত্ব পদ্ধতি, পোশাকের ধরন, শিক্ষা ও রীতিনীতি, রাজনৈতিক বিষয়ে অবস্থান—এসব দিক থেকে বেলজ একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে।
বিশেষত্ব হলো: বেলজ রাজনৈতিকভাবে কিছুটা বাস্তববাদী ও মাঝে মাঝে ইসরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতায় এগোয়, যেখানে ‘সাতমার’ প্রায়ই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিপরীত অবস্থানে থাকে।
বর্তমানে বেলজ শুধু ধর্ম নয়—শিক্ষা, দান–সামাজিক সেবা, দারিদ্র্যপ্রবণ পরিবারে সহায়তা, কোশের খাদ্য ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক বড় সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের Yeshiva (ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ।
ইহুদি ধর্মের বেলজ ধারা আজ একটি টিকে থাকা ইতিহাস, বেদনাবিধুর অতীত এবং পুনর্জন্মের শক্ত প্রতীক।
আরও পড়ুনঃ মিশরের ফেরাউনের অভিশপ্ত কফিন আবিস্কারের পর গবেষকদের মৃত্য রহস্য!








Leave a Reply