টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট: “Exclusive: Bangladesh’s Prodigal Son”
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী এবং একই সঙ্গে বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। টাইম ম্যাগাজিনের উল্লেখিত “Prodigal Son(অপব্যায়ী পুত্র)” শিরোনামই বলে দিচ্ছে তার চরিত্রের নিক্তি কোনদিকে ভারী।
তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পুত্র এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দলীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব অটুট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, নির্বাচিত কোনো রাষ্ট্রীয় পদে না থেকেও একসময় তারেক রহমান বিএনপির নীতিনির্ধারণ ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। এই অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী প্রভাবই তাকে সমর্থকদের চোখে দলের প্রধান কৌশলী এবং বিরোধীদের চোখে বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
প্রতিবেদনে তার দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের কথাও উঠে এসেছে। আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে তিনি বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তবে দূরে থেকেও তিনি বিএনপির কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছেন—এমন মূল্যায়ন করেছে টাইম ম্যাগাজিন।
এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিবেদনের একটি অনুচ্ছেদে তারিক রহমানকে ঘিরে প্রচলিত একটি সমালোচনামূলক উপনাম— “খাম্বা তারেক”—এর উল্লেখ করা হয়। টাইম ব্যাখ্যা করেছে, এই নামটি মূলত তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বিতর্কিত সময়ের প্রতীক। একসময় ঢাকায় অবকাঠামোগত খাম্বা স্থাপনকে কেন্দ্র করে যে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়ায়, তার সঙ্গে তারিক রহমানের প্রভাবশালী ভূমিকার অভিযোগ যুক্ত হয়ে এই উপনামের জন্ম হয়।
রিপোর্টে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। সমর্থকদের মতে, “খাম্বা তারেক” নামটি রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং প্রতিপক্ষের তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক পরিচয়, যার আইনি ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই নামটি তারেক রহমানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিফলন।
টাইম ম্যাগাজিন কোনো পক্ষ না নিয়ে দেখাতে চেয়েছে—এই একটি শব্দই বোঝায় তারেক রহমান কেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এতটা মেরুকৃত চরিত্র। তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে তার অতীতের বিতর্কও সমানতালে ফিরে আসে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন এক নেতা, যাকে ঘিরে সমর্থন ও বিরোধিতা—দুটোই তীব্র। তিনি কারও কাছে নির্বাসিত উত্তরাধিকারী, আবার কারও কাছে অতীতের বিতর্কের প্রতীক। ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তার ভূমিকা কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই দুই বিপরীত ধারণার সংঘাতের ওপর।
সূত্র: Time Magazine
আরও পড়ুনঃ








Leave a Reply