তারেক রহমানের নামে বর্তমানে কোনো কার্যকর মামলা নেই—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি আইনি অব্যাহতি পেয়েছেন। সরকার আপিল করলেও তা তাকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরাসরি বাধা নয়। যদি তিনি দেশে এসে গ্রেপ্তারও হন তবুও একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতাকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক কারণে আটক রাখা কঠিন। ইতিহাস বলছে—জেল থেকেই নির্বাচনে জেতা সম্ভব এবং দল যদি ক্ষমতায় আসে তবে সেই নেতাকে মুক্ত করা ও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসানো—এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তাহলে প্রশ্ন আসে—সমস্যা কোথায়?
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় ও স্থায়ী আর্থিক নিরাপত্তা
প্রধান সমস্যাটি রাজনৈতিক নয়—বাস্তবিক। যুক্তরাজ্যে তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন এবং সেখানেই তার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও সামাজিক স্থিতি গড়ে উঠেছে।
দেশে ফিরলেই তার রাজনৈতিক আশ্রয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিতে পড়বে—এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।
সুতরাং যুক্তরাজ্যের মত আরামদায়ক ও নিরাপদ জীবন ছেড়ে অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতার বাংলাদেশে এসে সম্ভাব্য জেলঝুঁকি নেওয়া—এটি তারেক রহমানের মতো দুর্বল নেতৃত্বের জন্য যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে না।
নেতৃত্বহীনতার সংকট: খালেদা জিয়ার অবস্থা ও দলের বাস্তবতা
দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে থেকেও তারেক রহমান বিএনপিকে নির্দেশনা দিতে পেরেছেন মূলত একটি কারণে—খালেদা জিয়া তখনো দলের প্রতীক ও ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন।
কিন্তু এখন তার শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। বিভিন্ন তথ্যমতে ধারণা করা যায় তিনি “ক্লিনিক্যালি ডেড”-কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। সুস্থ্য হলেও তাঁর রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার অবস্থা নেই।
এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন নিজেও দেশে ফেরার সম্ভাবনা একপ্রকার নাকচ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে তিনি বাংলাদেশে ভোটার নন এবং বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় নির্বাচনে অংশও নিতে পারছেন না।
ফলে বাস্তবে বিএনপির প্রধান নেতৃত্ব এখন কার্যত শূন্যতার মুখে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ: ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা
বিএনপিতে শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব নেই। কিন্তু দলটি আজ যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে, শুধু দূরবর্তী নির্দেশনায় রাজনীতি চালানো বিশেষ করে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া সম্ভব নয়। অনেকের মতে তিনি যোগ্যও নন। ০৫ আগস্টের পরে মাঠ পর্য্যায়ের নেতাদের মধ্যে অনৈক্য, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেখে মনে হয়েছে, দলের মহাসচিবের নির্দেশনা কেউ মানছে না, যদি সে নির্দেশ তারেক রহমানের তরফ থেকেও আসে।
অতএব, দলের ভবিষ্যত টিকিয়ে রাখতে হলে—
• দলকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন করতে হবে
• মাঠে থাকা পরীক্ষিত ও কার্যকর নেতাদের সামনে আনতে হবে
• দলের কার্যকরী চেয়ারম্যান বা নির্বাহী প্রধান হিসেবে একজন সক্ষম ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে
তারেক রহমান চাইলে উপদেষ্টা বা প্রতীকী নেতৃত্বে থাকতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে দল চালাতে হবে এমন কাউকে—যিনি দেশে আছেন, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বাস্তব রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে সক্ষম।
বিএনপির সামনে দুইটি পথ
বর্তমান অবস্থায় বিএনপির সামনে খুব পরিষ্কার দুটি পথ—
পথ–১: তারেক রহমানের দূরবর্তী নেতৃত্বে দল চালানো
– এতে দলের অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা দুর্বল থাকবে
– মাঠের রাজনীতি সংগঠিত হবে না
– দল দীর্ঘমেয়াদে সংকটে থেকে যাবে
পথ–২: বাস্তবসম্মত নেতৃত্ব পরিবর্তন ও দলকে পুনর্গঠন করা
– নতুন নেতৃত্বে দল তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে
– রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বিএনপি আবার শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে
– দেশের শাসনক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনাও বাড়বে
শেষ কথা
আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিএনপির জন্য দ্বার খুলে গিয়েছিলো। অনেকেই মনে করেছিলো, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে এবার তারাই ক্ষমতায় যাবে। তারেক রহমানের মামলা তুলে নেয়ায় দলের তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থকরা ভেবেছিলো এবার তদের নেতা স্কাইপি ছেড়ে দেশে আসবে, জুম মিটিং নয় সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু ব্যর্থ নেতৃত্ব এবং সর্বশেষ দেশে না আসার আভাস দিয়ে সমর্থকদের নিরাশা্র ধুম্রজালে ফেলে দিয়েছে দলের ‘কর্ণধার’!
সামনে এখন সময় এসেছে আবেগ নয়, বাস্তবতার রাজনীতি করার। দলটির ইতিহাস, শক্তি, জনসমর্থন—সবই আছে। শুধু প্রয়োজন সঠিক সময়ের সঠিক নেতৃত্ব।
তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে থাকলে থাকুন, কিন্তু দলকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে একজন কার্যকর, উপস্থিত ও সক্ষম নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া, ‘অন্তর্বর্তীকালিন নির্বাহী চেয়ার পারসন’ হিসেবে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে দল গোছাতে পারেন —এটাই আজকের বাস্তব প্রয়োজন।








Leave a Reply