প্রজাতন্ত্র : রম্য রচনা

জগাদার নাকি প্রজাতন্ত্রের ওপর বিশ্বাস অনেক দিন
আগেই উঠে গেছে।

 

সে বলে, তখন আমরা ছোট। এক
বৃহস্পতিবারে বাবা, মা ও আমরা তিন ভাই বোন একসঙ্গে বসে রাতের খাবার খাচ্ছি। বাবা
জিজ্ঞেস করলেন, “কাল ছুটি। তোমরা সবাই ছোট কাকার বাড়ি যাবে না মামার বাড়ি
যাবে?” 

 

আমরা সব ভাই বোন মিলে
হইহই করে বলে উঠি, কাকার বাড়ি। শুধু একমাত্র মা’র মতামত ছিল মামার বাড়ির তরফে।

 

সেদিন জনমত কাকার বাড়ি
যাবার তরফে ছিল এবং সেই অনুযায়ী ঠিক হয় আমরা আগামীকাল সবাই কাকার বাড়ি যাব। 

 

সেদিন মা হেরে গিয়েছিলেন
ও বাবা আমাদের মতামতের সম্মান রক্ষা করে ঘোষণা করেছিলেন, 

“ঠিক আছে এবার সবাই
শুয়ে পড়। আমরা কাল সবাই কাকার বাড়ি যাব।” 

 

আমরা সবাই পরের দিন
যাত্রার আনন্দে শুতে চলে যাই ও কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ি।

 

শুক্রবার সকালে উঠে দেখি
মা’র স্নান সারা হয়ে গেছে ও তিনি নিজের সদ্যস্নাত ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে ঝাড়ছেন।
আমার দিকে নজর যেতেই মা মুচকি হেসে বলেন, “সবাই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও। আমরা
সবাই মামার বাড়ি যাচ্ছি  আজ।” 

 

আমি হাঁ করে মায়ের কথা
শুনছিলাম। বাবার দিকে তাকাতেই দেখি তিনি খবরের কাগজ পড়ার বাহানায় তার আড়ালে নিজের
মুখ ঢেকেছেন আর আমাদের সঙ্গে চোখাচুখি করছেন না। আমি থ’ হয়ে অবাক চোখে তাঁর দিকে
চেয়ে থেকেছিলাম সেদিন। সেদিনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, প্রজাতন্ত্র, জনমতের সম্মান
ইত্যাদি সবটাই মেকি। আসল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বন্ধ কামরায় গোপন আঁতাতে যখন গরীব
জনতা গভীর নিদ্রামগ্ন।

 

লেখক: বিপ্লব কুমার
দে 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top