![]() |
| প্রতীকী ছবি |
সংক্ষিপ্ত ভূমিকা
সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা রক্ষার মূলভিত্তি হলো চেইন অব কমান্ড। রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও, তাঁর নির্দেশ কার্যকর হয় সেনাপ্রধানের মাধ্যমে। সেনাপ্রধানকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি ডিভিশন বা ইউনিট পর্যায়ে কোনো আদেশ দেওয়া শুদ্ধ নয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা মূলত প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এই নিবন্ধে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড, রাষ্ট্রপতি ও সরকারের সম্পর্কিত সাংবিধানিক কাঠামো এবং এর বাস্তব তাৎপর্য আলোচনা করা হয়েছে।
সেনাপ্রধানের অফিসার্স এড্রেস
সেনাপ্রধান সম্প্রতি তার অধীনস্থ অফিসারদের উদ্দেশ্যে এক বক্তৃতায় চেইন অব কমান্ড মেনে চলতে নির্দেশ দিয়েছেন।এর আগে এ বিষয়ের সংবাদ বাইরে আসেনি। ০৫ আগষ্ট ২০২৪ পরবর্তীতে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিয়োজিত আছে। স্বাভাবিকভাবেই উৎসুক মানুষের দৃষ্টি সেনাবাহিনীর দিকে থাকে, তাই কিছু সংবাদ বাইরে এসে যায়।
চেইন অব কমান্ড কী?
শীর্ষ পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে নিম্নস্তরে নির্দেশ পৌঁছানো এবং তা মেনে চলার যে প্রক্রিয়া তাকেই চেইন অব কমান্ড বলা হয়। সেনাবাহিনীতে এটি একটি অত্যন্ত কঠোর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ কাঠামো। উদাহরণস্বরূপ—
সেনাপ্রধান ➝ ডিভিশন/এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) ➝ ব্রিগেড কমান্ডার ➝ ইউনিট কমান্ডার ➝ সৈনিক।
এই ক্রম ধরে নির্দেশ নিচে নামে এবং তা পালন করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। এরূপ নিচের কমান্ডার উপরের কমান্ডারকে রিপোর্ট করার সময়ও এই ক্রম মেনে চলে।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা
সেনা পরিভাষায় তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেন C-in-C (Chief in Command)। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এই পদটির অধিকারী হলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি তিন বাহিনীর প্রধানদের কমান্ড করতে পারেন।
কিন্তু রাষ্ট্রপতি যদি সেনাপ্রধানকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কোনো ডিভিশন বা ব্রিগেড কমান্ডারকে নির্দেশ দেন, তবে সেটি হবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অশুদ্ধ ও অকার্যকর। কারণ তা চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা
অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, তাহলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কী করে?
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ মূলত প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান।
মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার (PSO) হচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর স্টাফ অফিসার।
তার কোনো কমান্ডিং পাওয়ার নেই; তিনি শুধু নীতিগত ও প্রশাসনিক সমন্বয় করেন।
সংসদীয় সরকার পদ্ধতি ও সামরিক বাহিনী
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কাজ করেন। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নীতি ও নির্দেশ বাস্তবায়ন করে সরকার। ফলে সামরিক বাহিনীর সরকারি নির্দেশ মূলত সরকার থেকেই আসে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেক্ষাপট
তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকার—যেকোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে সকল কর্তৃত্বের অধিকারী। তবে তাঁর সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদ থাকে কেবল একটি পরামর্শদাতা পরিষদ হিসেবে।
মূল বক্তব্য
অতএব, স্পষ্ট যে—
“যে-কোনো ‘জা.নি.উ.’ কিংবা প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার সরাসরি সেনাবাহিনীর কোনো নিম্ন ইউনিটকে নির্দেশ দিতে পারেন না। সমস্ত আদেশ সেনাপ্রধানের মাধ্যমে কার্যকর হতে হবে।”
এটাই সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, এটাই সাংবিধানিক বাস্তবতা। কিন্তু সম্প্রতি এর ব্যত্যয় ঘটায় হয়তো সেনাপ্রধান বিষয়টি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।









Leave a Reply