| মেজর জেনারেল(অবঃ) আ ল ম ফজলুর রহমান |
রহমান যে বিবৃতি দিয়েছেন তা অজ্ঞানতাপ্রসূত ও উস্কানিমূলক। সেনাবাহিনীর অফিসাররা সাধারণত
খুব মেধাবী হন। তারা সব সময় যুদ্ধবিদ্যা বিষয়ে থিউরিটিক্যাল, প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণের
পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও বিশ্বকোষ নিয়ে পড়াশুনায় নিয়োজিত থাকেন। এই পড়াশুনা
তাদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ, যা তাদের অধিক জ্ঞানার্জনে সাহায্য করে। মেজর জেনারেল(অবঃ) ফজলুর রহমান তার ব্যতিক্রম না। বিডিআর প্রধান
হিসেবেও তিনি তার পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। কেনো তিনি এমন বিবৃতি দিলেন তা
তিনিই জানেন।
“ভারত যদি পাকিস্তান আক্রমণ করে, তাহলে বাংলাদেশের উচিত উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত
রাজ্য দখল করা।”
অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ভারত আমাদের ১ কোটিরও বেশি শরণার্থীকে থাকা খাওয়ার
ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ (তিনি নিজেও ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন), অস্ত্র
দিয়ে সাহায্য, সর্বোপরি সরাসরি যুদ্ধে সহায়তা করেছে, যেখানে ভারত আমাদের মিত্র এবং
স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান শত্রু হওয়ার কথা, সেই পাকিস্তানের সাথে ভারতের যুদ্ধ লাগলে
আমাদের ভারত আক্রমণ করতে হবে কেনো? ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় অরক্ষিত পূর্ব
পাকিস্তান তো ভারত আক্রমণ করেনি? তাছড়া ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেয়ার শক্তিমত্তারই
উৎস কি? চীনের সাথে আলাপ করে চীনের সাহায্য নেয়ার কথা বলেছেন, চীন যদি সাহায্য না করে?
তাছাড়া পরনির্ভরশীল হয়ে নিকট প্রতিবেশী দেশকে যুদ্ধের উস্কানী দেয়ার কারণ কি? আমাদের
লাভই বা কি?
সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড লাভ করেন, সেহেতু ১৯৭৫ সালে তিনি হয়তো একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জনাব মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু (বর্তমান রাষ্ট্রপতি)
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তাকে জেলে নেয়া হয়। জেলে ফজলুর রহমান তাকে
শারীরিক নির্যাতন করেন এবং নির্যাতনের সময় তিনি নাকি বঙ্গবন্ধু শব্দটি বিকৃতভাবে উচ্চারণ
করেছিলেন। তা সত্বেও তিনি ২০০০ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে একটা গুরুত্বপুর্ন বাহিনীর
প্রধানের পদে নিযুক্তি পেয়েছিলেন।
পাঠকগণ পড়লে বুঝতে পারবেন, একজন অভিজ্ঞ লোক হয়ে কি ধরনের উস্কানিমূলক বিবৃতি দিয়েছেন
তিনি।
আ ল ম ফজলুর রহমানের ফেসবুক
পোষ্ট:
“ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিৎ হবে উত্তর পূর্ব
ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেয়া। এব্যাপারে
চীনের সাথে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।”
একথা আমি বলেছি। কেন বলেছি তার বিশ্লেষণ হলো ভারতের বিজেপি
সরকারের সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে যে ভারতে ” এন আর সি” বা নাগরিক পুঞ্জি
করে ভারতের মুসলমানদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আবদ্ধ করে মুসলমানদের
হত্যা করা। কিংবা ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে পুশ করে পাঠিয়ে দেয়া।
এই পরিকল্পনা ভারত নিয়েছে ইসরাইলের কাছ থেকে। আপনারা লক্ষ্য করছেন কিভাবে ভারতে মুসলমানদের
হত্যা করা হচ্ছে।
এই উপমহাদেশে মূলত দুটি মুসলমান দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
মালদ্বীপ এতো ছোট আর সামরিক ভাবে দুর্বল যে ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার কোনো দায়িত্ব
মালদ্বীপ পালন করতে পারবেনা। তাহলে ভারতে মুসলমানদের জান এবং মাল রক্ষার মূল দায়িত্ব
পালন করতে হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে। এইতো কয়দিন আগে ভারতে মুসলমানদের ওকফ সম্পত্তির
সবটাই বিজেপি সরকার কেড়ে নিয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই ভারতে মুসলমানদের মুর্দাকে কবর
দেওয়ার জায়গা পাওয়া যাবেনা। ভারতে কোনো মাদ্রাসা, মসজিদ থাকবেনা। কারণ শত শত মসজিদ,
মাদ্রাসা ওয়াকফ জমির উপর অবস্থিত এবং ওয়াকফের টাকায় চলে। ওয়াকফ না থাকলে এইসব মসজিদ
থাকবেনা। মাদ্রাসাও থাকবেনা। ইতিমধ্যেই ভারতের সরকার রাস্তা এবং খোলা স্থানে নামাজ
পড়া নিষিদ্ধ করেছে। অথচ হিন্দুরা রাস্তায় হোলি খেলছে এবং রাস্তায় দলবেঁধে অনুষ্ঠান
করছে বাধাহীন ভাবে।
এবারে নরেন্দ্র মোদী সরকার পাহেলগামে নিজেরা পর্যটকদের
হত্যা করে পাকিস্তানের উপরে দোষ চাপিয়ে পাকিস্তান আক্রমণ করে ধ্বংস করার পরিকল্পনা
করেছে। যদি ভারত পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয় তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের
প্রতি ভারতের হুমকি কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে কল্পনা করতে পারেন! তাই পাকিস্তানকে সামরিকভাবে
রক্ষা করা এখন আমাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এর মানে এই নয় যে আমাদেরকে
পাকিস্তানের বন্ধু হতে হবে। এটা একটা স্ট্রাটেজিক বিষয়। পারস্পরিক নির্ভরতার বিষয়।
যদি ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করে তবে চীনের সঙ্গে মিলে ভারতের উত্তর পূর্ব সাত রাজ্যকে
দখলে নেয়া এটা ভারতের পাকিস্তান আক্রমণের রিজিওনাল ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া। যাতে
ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করতে উৎসাহিত না হয়।
যারা সামরিক স্ট্রাটেজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন তারা অযথা
এমন বিষয়ে মন্তব্য করে সময় নষ্ট করবেননা দয়া করে। এই উপমহাদেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে
যা ঘটছে এর জন্য দায়ী ভারত। বাংলাদেশ বলেন পাকিস্তান বলেন আমরা কারো দেশ দখল করে দেশের
সীমানা বৃদ্ধি করতে চাই না। আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নিয়ে ব্যস্ত। এই লড়াইয়ে
পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে মাঠে নামিয়েছে ভারত। শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশের শান্তি ও
স্থিতিশীলতা বিনস্ট করতে চায় কে? ভারত। এর পরেও কি আমরা হাত গুটিয়ে বসে থেকে নিজের
অস্তিত্ব নিজেরা ধ্বংস করবো? আমাদের সতেরো কেটি মানুষ আছে। আমরা আমাদের শত্রুকে অবশ্যঅবশ্যই
ধ্বংস করতে সক্ষম। আসুন আমার সাথে শপথ নেই। লড়বো শত্রুকে ধ্বংস করবো এবং গাজি হয়ে ফিরবো
ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে বলবো আমার কাছে সব চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই উপমহাদেশে
মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করা। মুসলমান বান্ধব মানুষদের স্বার্থ রক্ষা করা। কে কি ভাবলো
তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নাই।”







Leave a Reply